সুস্থ হৃদয়ে ঘরে ফিরলেন অস্তরেণুর ভালোবাসা

সুস্থ হৃদয়ে ঘরে ফিরলেন অস্তরেণুর ভালোবাসা

সুখে অসুখে ডেস্ক

ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের ৪২৮ নম্বর রুম। বাইরে হাসপাতালের চিরচেনা ব্যস্ততা থাকলেও রুমের ভেতরে বিরাজ করছে এক শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ। বেডে শুয়ে আছেন ২৮ বছর বয়সী মিক্সন চাকমা। সম্প্রতিই তাঁর হার্টে সফলভাবে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মুখে এখন কষ্টের ছাপ নেই, বরং আছে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আনন্দ। পাশেই বসে আছেন স্ত্রী অস্তরেণু চাকমা ও বড় দুই ভাই। শুভেচ্ছা বিনিময় করে ‘সবাই কেমন আছেন’ জিজ্ঞাসা করতেই মিক্সন চাকমা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা যেন একযোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। হাসিমুখে মিক্সন চাকমার স্ত্রী এবং বড় ভাই বললেন—“ল্যাবএইড থেকে আমরা যে সেবা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা সত্যিই অতুলনীয়। আমরা যে কতটা কৃতজ্ঞ এবং স্বস্তিবোধ করছি, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।”

মিক্সন চাকমার বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরে। আর দশজন সাধারণ মানুষের মতোই সুস্থভাবে বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসতেন ফুটবল ও ভলিবল খেলতে। ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়ার। ঠিক তখনই তাঁর হার্টের সমস্যাটি ধরা পড়ে। এক রাতে তিনি ভীষণ অসুস্থবোধ করেন। হঠাৎ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। দ্রুত তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রেফার করা হয় খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসক জানান, তাঁর হার্টে ছিদ্র রয়েছে।

মিক্সন বলেন—‘‘তখন আমি বুঝিনি হার্টে ছিদ্র মানে কী। এরপর অনেক ডাক্তার দেখাই। সবাই একই কথা বলেন। হার্টে ছিদ্র নাকি একটি জন্মগত রোগ, শুধু অপারেশনের মাধ্যমেই সুস্থ হওয়া সম্ভব। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তখন আমার পক্ষে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়নি।’’
স্বামীর হার্টের এমন একটি জটিল সমস্যার কথা বিয়ের আগে থেকে জানতেন কি না, মিক্সন চাকমার স্ত্রী অস্তরেণু চাকমাকে এমন প্রশ্ন করতেই তাঁর চোখে-মুখে এক অদ্ভুত মায়া ফুটে ওঠে। লাজুক হেসে অস্তরেণু চাকমা বলেন—“ওনার হার্টে ছিদ্রের সমস্যাটি ধরা পড়ার দুই মাস পরেই আমাদের বিয়ে হয়। অসুস্থতার খবর শোনার পর আমার পরিবারের কেউই এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু ওনার সঙ্গে আমার দীর্ঘ ১২ বছরের সম্পর্ক। তাই সব বাধা উপেক্ষা করে ওনাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছি।”

এ পর্যায়ে মিক্সন চাকমার চিকিৎসায় ল্যাবএইডকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর বড় ভাই উত্তম চাকমা বলেন—“আমি পেশায় একজন সাংবাদিক। আমার পরিচিত একজন প্রথিতযশা সাংবাদিকের মাধ্যমে ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. এম. শামীম স্যারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। স্যারকে আমার ভাইয়ের কথা বললে তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আমার ভাইয়ের যাবতীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানের আশ্বাস দেন।”

উত্তম চাকমা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আরও বলেন—“স্যারের সেই আশ্বাসের ওপর ভরসা করেই আমরা ল্যাবএইডে আসি। তিনি সত্যিই তাঁর কথা রেখেছেন এবং আমার ভাইকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অপারেশনের পর আমার ভাই এখন সুস্থ আছেন। আজ আমরা বাড়ি ফিরবো। স্যারের এই মহত্ত্ব ও উদারতায় আমরা মুগ্ধ। আমরা সবাই তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।”

শুধু চিকিৎসাসেবা নয়; হাসপাতালের স্টাফ, নার্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যবহারেও মিক্সন চাকমা ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। মিক্সন চাকমা বলেন—‘‘এখানকার প্রত্যেকে খুবই আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। তাঁদের আচরণে মনে হয়েছে আমি যেন হাসপাতালে নয়, নিজ বাড়িতে আপনজনদের সাথেই আছি।’’

LinkedIn
Share
WhatsApp